আব্বাসীয় খিলাফত
সাম্রাজ্য

আব্বাসীয় খিলাফত

5 মাস আগে14 min read

আব্বাসীয় খিলাফত (৭৫০–১২৫৮ খ্রিষ্টাব্দ): ৭৫০ খ্রিস্টাব্দে উমাইয়াদের পতন ঘটিয়ে আব্বাসীয়রা ক্ষমতায় আসে। তারা রাজধানী বাগদাদে (ইরাক) স্থানান্তরিত করে এবং ইসলামী স্বর্ণযুগ প্রত্যক্ষ করে। ১২৫৮ খ্রিস্টাব্দে মঙ্গোলদের দ্বারা বাগদাদের পতনের আগ পর্যন্ত এটি স্থায়ী ছিল। পরবর্তীতে মামলুক সুলতানদের অধীনে কায়রোতে একটি প্রতীকী আব্বাসীয় খিলাফত ছিল। প্রথম খলিফা: আবুল আব্বাস আস-সাফাহ (শাসনকাল ৭৫০–৭৫৪ খ্রিষ্টাব্দ)। তিনি উমাইয়াদের পরাজিত করে খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেন। শেষ খলিফা (বাগদাদ): মুস্তাসিম বিল্লাহ (মৃত্যু ১২৫৮ খ্রিষ্টাব্দ)। মঙ্গোল নেতা হালাকু খানের বাগদাদ আক্রমণের সময় তিনি নিহত হন এবং বাগদাদের পতন ঘটে। বিখ্যাত খলিফা: হারুন আল-রশিদ (শাসনকাল ৭৮৬–৮০৯ খ্রিষ্টাব্দ) এবং তার পুত্র আল-মামুন (শাসনকাল ৮১৩–৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দ) তাদের শাসনামলে বিজ্ঞান, শিল্পকলা এবং দর্শনের অভূতপূর্ব বিকাশ ঘটে। অর্জন: ইসলামী স্বর্ণযুগ: বাগদাদে 'বায়তুল হিকমাহ' (House of Wisdom) প্রতিষ্ঠা করা হয়, যেখানে গ্রিক, পারসিয়ান এবং ভারতীয় জ্ঞান আরবিতে অনুবাদ করা হয়। ইসলামী সংস্কৃতি ও সভ্যতার বিকাশ: আব্বাসীয় আমলে ইসলামি সভ্যতা বিশ্বে শীর্ষে পৌঁছে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি: ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসার লাভ করে এবং কৃষি ব্যবস্থার উন্নতি ঘটে। প্রধান যুদ্ধ: জাব যুদ্ধ (৭৫০ খ্রি.): উমাইয়া খিলাফতকে পরাজিত করে আব্বাসীয়রা ক্ষমতা দখল করে। তালাসের যুদ্ধ (৭৫১ খ্রি.): চীনা ট্যাং রাজবংশের বিরুদ্ধে বিজয়, যার ফলে মধ্য এশিয়ায় মুসলিম প্রভাব বাড়ে এবং কাগজের প্রযুক্তি মুসলিম বিশ্বে আসে। ব্যর্থতা: কেন্দ্রীয় ক্ষমতার দুর্বলতা: বিশাল সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় রাজবংশগুলির উত্থান এবং নিয়ন্ত্রণ হারানো (যেমন: ফাতেমীয়, উমাইয়া কর্ডোভা)। অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ ও গৃহযুদ্ধ: শিয়া–সুন্নি দ্বন্দ্ব ও বিদ্রোহ খিলাফতকে দুর্বল করে। অর্থনৈতিক দুর্বলতা: রাজকীয় বিলাসিতা ও প্রশাসনিক ব্যয়ে কোষাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মঙ্গোল আক্রমণ: ১২৫৮ সালে মঙ্গোলদের দ্বারা বাগদাদের ধ্বংস এবং খিলাফতের আনুষ্ঠানিক পতন।

আব্বাসীয় খিলাফত | Taawaf