
ফাতেমীয় খিলাফত
5 মাস আগে • 16 min read
ফাতেমীয় খিলাফত (৯০৯–১১৭১ খ্রিষ্টাব্দ): এটি ছিল একটি শিয়া ইসমাইলি খিলাফত যা উত্তর আফ্রিকা ও মিশরে (রাজধানী কায়রো) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তারা আব্বাসীয়দের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেছিল। এটি ছিল আব্বাসীয় খিলাফতের প্রতিদ্বন্দ্বী এবং ইতিহাসের একমাত্র প্রধান শিয়া খিলাফত। প্রথম খলিফা: আব্দুল্লাহ আল-মাহদি বিল্লাহ (শাসনকাল ৯০৯–৯১৩ খ্রিষ্টাব্দ)। তিনি নিজেকে ইমাম এবং খলিফা হিসেবে ঘোষণা করেন। শেষ খলিফা: আল-আদিদ লি-দিন আল্লাহ (শাসনকাল ১১৬০–১১৭১ খ্রিষ্টাব্দ) সালাদিন (আইয়ুবীয় রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা) তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে মিশরে সুন্নি শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। বিখ্যাত খলিফা: আল-মুইজ লি-দিন আল্লাহ (শাসনকাল ৯৬৬–৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দ) তার সময়ে ফাতেমীয়রা মিশর জয় করে এবং কায়রো শহর প্রতিষ্ঠা করে তাকে রাজধানী বানায়। অর্জন: কায়রো প্রতিষ্ঠা: মিশরের কায়রোকে একটি সমৃদ্ধ রাজধানী এবং জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। অর্থনীতি ও বাণিজ্য: ভূমধ্যসাগরীয় বাণিজ্যে আধিপত্য বিস্তার এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন। আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়: বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ফাতেমীয়দের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়। যুদ্ধে বিজয়সমূহ : ইফরীকিয়া দখল যুদ্ধ (৯০৯ খ্রি.): আঘলাবি শাসনকে পরাজিত করে ফাতেমীয় খিলাফতের সূচনা হয়। মিসর বিজয় অভিযান (৯৬৯ খ্রি.): ফুস্তাত দখল করে ফাতেমীয়রা মিসরে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। কায়রো প্রতিষ্ঠা ও নিয়ন্ত্রণ: কায়রো নগরী দখল ও প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে রাজধানী স্থাপন করা হয়। লেভান্ট ও সিরিয়া অভিযান: ফিলিস্তিন ও সিরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল দখলে আনা হয়। হেজাজ নিয়ন্ত্রণ যুদ্ধ: মক্কা ও মদিনার ওপর প্রভাব বিস্তার করে ধর্মীয় মর্যাদা অর্জন করা হয়। ব্যর্থতা: অভ্যন্তরীণ বিভেদ: ইসমাইলি সম্প্রদায়ের মধ্যে উপদলীয় কোন্দল। সামরিক দুর্বলতা: ক্রুসেডার এবং সুন্নি শক্তির (বিশেষ করে সালাদিনের) চাপের মুখে খিলাফতের পতন ঘটে। অর্থনৈতিক দুর্বলতা (শেষ দিকে): দুর্নীতি ও ব্যয়ে কোষাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।