
সেলজুক সাম্রাজ্য
5 মাস আগে • 18 min read
সেলজুক সাম্রাজ্য (১০৩৭–১১৯৪ খ্রিষ্টাব্দ): সেলজুক ছিল মধ্যযুগীয় পশ্চিম ও মধ্য এশিয়ার একটি শক্তিশালী তুর্কি-ফার্সি সুন্নি মুসলিম সাম্রাজ্য। এটি ওঘুজ তুর্কিদের একটি শাসক সামরিক পরিবার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং ১০৩৭ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১১৯৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত শাসন করেছিল। প্রথম সুলতান: তুঘরিল বেগ (শাসনকাল ১০৩৭–১০৬৩ খ্রিষ্টাব্দ) তিনি ওঘুজ তুর্কিদের কিনিক উপজাতির একজন নেতা ছিলেন। তিনি গজনবী সাম্রাজ্যকে দান্দানাকানের যুদ্ধে পরাজিত করে সাম্রাজ্যের ভিত্তি স্থাপন করেন এবং বাগদাদ দখল করে আব্বাসীয় খলিফার কাছ থেকে রাজনৈতিক ক্ষমতা গ্রহণ করেন। শেষ সুলতান: তৃতীয় তুঘরিল (শাসনকাল ১১৬০–১১৯৪ খ্রিষ্টাব্দ) ১১৯৪ সালে খোয়ারাজমীয় সাম্রাজ্যের সাথে যুদ্ধে তার পরাজয় এবং মৃত্যুর মাধ্যমে গ্রেট সেলজুক সাম্রাজ্যের পতন ঘটে। বিখ্যাত সুলতান: প্রথম মালিক শাহ (শাসনকাল: ১০৭২–১০৯২) তার শাসনামলে সেলজুক সাম্রাজ্য অর্ধ-পৃথিবী পর্যন্ত বিস্তৃত হয় এবং এটি ছিল সাম্রাজ্যের স্বর্ণযুগ। অর্জন: মুসলিম বিশ্বের একত্রীকরণ: সেলজুকরা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বিভাজন দূর করে মেসোপটেমিয়া, সিরিয়া, ফিলিস্তিন এবং ইরানের বেশিরভাগ অংশ জুড়ে একটি শক্তিশালী সুন্নি মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিল। সুন্নি ইসলামের প্রতিরক্ষা: শিয়া ফাতেমীয় খিলাফতের প্রভাবের বিপরীতে সেলজুকরা আব্বাসীয় খিলাফতকে রক্ষা করে সুন্নি ইসলামের পুনরুত্থানে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। জ্ঞান ও সংস্কৃতি: সেলজুক যুগে পারস্য সংস্কৃতি ও তুর্কি ঐতিহ্য মিশ্রিত হয়। তারা অসংখ্য মাদ্রাসা (শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) প্রতিষ্ঠা করে এবং নিজামুল মুলক কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'নিজামিয়া' মাদ্রাসাগুলো জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র ছিল। ক্রুসেডের মোকাবিলা: প্রথম ও দ্বিতীয় ক্রুসেড উভয় ক্ষেত্রেই সেলজুকরা ইউরোপীয় ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। প্রধান যুদ্ধ: দান্দানাকানের যুদ্ধ (১০৪০ খ্রি.): গজনবীদের বিরুদ্ধে বিজয়, যা সেলজুক সাম্রাজ্যের উত্থান নিশ্চিত করে। মানজিকার্টের যুদ্ধ (১০৭১ খ্রি.): সুলতান আল্প আরসালান বাইজেন্টাইন সম্রাট চতুর্থ রোমানোস ডায়োজিনিসকে পরাজিত ও বন্দী করেন। এই বিজয়ের ফলে আনাতোলিয়া (বর্তমান তুরস্ক) তুর্কিদের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায়। ব্যর্থতা : অভ্যন্তরীণ বিভাজন: প্রথম মালিক শাহের মৃত্যুর পর (১০৯২ খ্রি.) সাম্রাজ্যের মধ্যে উত্তরাধিকার নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয় এবং সাম্রাজ্য বিভিন্ন অংশে বিভক্ত হয়ে পড়ে। শাসকদের দুর্বলতা: শেষের দিকের সুলতানরা কেন্দ্রীয় ক্ষমতা ধরে রাখতে ব্যর্থ হন, যার ফলে স্থানীয় গভর্নর এবং সামরিক নেতারা স্বাধীন হতে শুরু করে। বহিরাগত আক্রমণ: পূর্ব দিক থেকে কারা-খিতাইদের চাপ এবং পশ্চিম দিক থেকে ক্রুসেডারদের আক্রমণের ফলে সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ে। খোয়ারাজমীয়দের উত্থান: ১১৯৪ সালে খোয়ারাজমীয় সাম্রাজ্যের কাছে চূড়ান্ত পরাজয়ের ফলে গ্রেট সেলজুক সাম্রাজ্যের অবসান ঘটে। রুমের সেলজুক সালতানাত নামে একটি শাখা ১৩০৮ সাল পর্যন্ত টিকে ছিল।